সহজ ও বিস্তারিত নোট
১) বংশবৃদ্ধি কী
যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব নিজের মতো নতুন জীব সৃষ্টি করে, তাকে বংশবৃদ্ধি বলে।
বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে জীবের সংখ্যা বাড়ে, প্রজাতি টিকে থাকে এবং পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব বজায় থাকে।
উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি প্রধানত দুইভাবে হয়:
যৌন বংশবৃদ্ধি
অযৌন বংশবৃদ্ধি
তোমার দেওয়া অংশে মূলত অযৌন এবং তার মধ্যে অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি বেশি আলোচনা করা হয়েছে।
২) অযৌন বংশবৃদ্ধি কী
যে বংশবৃদ্ধিতে:
মাত্র একটি জনিতৃ উদ্ভিদ অংশ নেয়,
গ্যামেট বা জননকোষ লাগে না,
বীজ ছাড়াই নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়,
তাকে অযৌন বংশবৃদ্ধি বলে।
এ ধরনের বংশবৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং নতুন উদ্ভিদ সাধারণত মাতৃউদ্ভিদের মতোই হয়।
৩) অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি কী
উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড বা পাতা থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মালে তাকে অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি বলে।
এখানে বীজ লাগে না।
এটি অযৌন বংশবৃদ্ধিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উদাহরণ:
আলু
আদা
পেঁয়াজ
ব্রায়োফিলাম
৪) প্রাকৃতিক অযৌন বংশবৃদ্ধি
প্রকৃতিতে নিজের থেকেই উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মালে তাকে প্রাকৃতিক অযৌন বংশবৃদ্ধি বলে।
এটি কয়েকভাবে হয়:
(ক) স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি
স্পোর কী
স্পোর হলো খুব ছোট, হালকা, বিশেষ ধরনের জননকণা, যা থেকে নতুন জীব জন্মাতে পারে।
স্পোর বীজ নয়।
কোথায় দেখা যায়
Mucor
Penicillium
Rhizopus
অন্যান্য ছত্রাক
কীভাবে হয়
ছত্রাকের দেহে স্পোরথলি তৈরি হয়।
স্পোরথলির ভেতরে অসংখ্য স্পোর জন্মায়।
স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
অনুকূল পরিবেশে পড়লে নতুন জীব তৈরি হয়।
স্পোরের বৈশিষ্ট্য
খুব হালকা
সহজে ছড়ায়
প্রতিকূল পরিবেশেও কিছুটা টিকে থাকতে পারে
সহজ উদাহরণ
পাউরুটিতে বা বাসি খাবারে কালো/সবুজ ফাঙ্গাস দেখা যায়। এগুলো স্পোরের মাধ্যমে ছড়ায়।
(খ) খণ্ডীভবন
খণ্ডীভবন কী
যখন কোনো জীবের দেহ কয়েকটি খণ্ডে ভাগ হয়ে যায় এবং প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হয়, তাকে খণ্ডীভবন বলে।
উদাহরণ
Spirogyra
কীভাবে বুঝবে
একটি লম্বা সুতো যদি কয়েক টুকরা হয়, আর প্রতিটি টুকরা আবার নতুন সুতোতে পরিণত হয়—এটাই খণ্ডীভবনের মতো।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
খণ্ডীভবন সাধারণত সরল গঠনের জীবের মধ্যে দেখা যায়।
(গ) মুকুলোদ্গম
মুকুলোদ্গম কী
মাতৃদেহের গায়ে ছোট মুকুল বা ফোলা অংশ তৈরি হয়ে সেটি বড় হয়ে নতুন জীব তৈরি করলে তাকে মুকুলোদ্গম বলে।
উদাহরণ
Yeast
গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন
ইস্ট এক ধরনের ছত্রাক, উদ্ভিদ নয়।
তবে অযৌন বংশবৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে এটি পড়ানো হয়।
(ঘ) পুনর্জন্ম
পুনর্জন্ম কী
জীবদেহের কাটা বা বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে আবার সম্পূর্ণ নতুন জীব তৈরি হওয়ার ক্ষমতাকে পুনর্জন্ম বলে।
উদাহরণ
কিছু শৈবাল
Planaria
Hydra
গুরুত্বপূর্ণ কথা
সব জীবের এই ক্ষমতা নেই।
খণ্ডীভবন ও পুনর্জন্মের পার্থক্য
খণ্ডীভবনে দেহ ভেঙে প্রতিটি অংশ নতুন জীব হয়।
পুনর্জন্মে কাটা অংশ থেকে আবার পূর্ণ জীব তৈরি হয়।
(ঙ) মূলের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি
কিছু উদ্ভিদের মূল খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা হয়।
সেই মূল থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মাতে পারে।
উদাহরণ
মিষ্টি আলু
ডালিয়া
সহজ কথা
মাটির নিচে থাকা মোটা মূল থেকে নতুন কুঁড়ি বের হয়ে গাছ হয়।
(চ) কাণ্ডের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি
উদ্ভিদের কাণ্ডের বিভিন্ন পরিবর্তিত অংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।
উদাহরণ
আলু → কন্দ
আদা → মূলকাণ্ড বা রাইজোম
পেঁয়াজ → বাল্ব
আলুর ক্ষেত্রে
আলুর “চোখ” অংশ আসলে কুঁড়ি।
এই কুঁড়ি থেকেই নতুন গাছ জন্মায়।
গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন
আলু মূল নয়, এটি পরিবর্তিত কাণ্ড।
(ছ) পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি
কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় ছোট ছোট কুঁড়ি তৈরি হয়।
সেখান থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।
উদাহরণ
Bryophyllum
গুরুত্বপূর্ণ কথা
Bryophyllum-এর পাতার কিনারায় ছোট অস্থানিক কুঁড়ি তৈরি হয়, সেখান থেকেই নতুন চারা হয়।
৫) কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি
মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ভিদের নতুন চারা তৈরি করলে তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি বলে।
এটি কৃষিকাজে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির সুবিধা
দ্রুত অনেক চারা পাওয়া যায়
ভালো জাত সংরক্ষণ করা যায়
ফল দ্রুত পাওয়া যায়
মাতৃউদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে
(ক) জোড় কলম
জোড় কলম কী
দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের অংশ জোড়া লাগিয়ে নতুন উদ্ভিদ তৈরি করার পদ্ধতিকে জোড় কলম বলে।
অংশ দুইটি
Stock: নিচের অংশ, যার মূল থাকে
Scion: উপরের অংশ, যা ভালো বা উন্নত জাতের হয়
কীভাবে করা হয়
Stock-এ কাটা বা চেরা করা হয়
Scion বসানো হয়
শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়
পরে দুই অংশ জোড়া লেগে যায়
উদাহরণ
আম
লেবু
গোলাপ
সুবিধা
ভালো মানের ফল পাওয়া যায়
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়
উন্নত জাতের গাছ তৈরি করা যায়
(খ) কাটিং
কাটিং কী
গাছের ডাল বা কাণ্ড কেটে মাটিতে পুঁতে নতুন গাছ তৈরি করার পদ্ধতিকে কাটিং বলে।
উদাহরণ
গোলাপ
মানিপ্ল্যান্ট
জবা
গুরুত্বপূর্ণ কথা
ডালে অবশ্যই গাঁট বা node থাকতে হবে।
কারণ সেখান থেকেই শিকড় ও কুঁড়ি বের হয়।
৬) প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির পার্থক্য
৭) খুব গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন
তোমার লেখাগুলোর মধ্যে কিছু অংশ ঠিক আছে, কিছু অংশ একটু সংশোধন দরকার। সেগুলো নিচে ঠিক করে দেওয়া হলো:
আলু = পরিবর্তিত কাণ্ড
Bryophyllum = পাতার মাধ্যমে অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি
Yeast = ছত্রাক, উদ্ভিদ নয়
Spore = বীজ নয়, এটি জননকণা
Mucor / Penicillium = ছত্রাকের উদাহরণ
Grafting-এ Stock ও Scion ব্যবহৃত হয়
Cutting-এ ডালে গাঁট থাকা দরকার
৮) পরীক্ষায় আসতে পারে এমন প্রশ্ন
খুব ছোট প্রশ্ন
স্পোর কী?
খণ্ডীভবন কাকে বলে?
Bryophyllum-এর কোন অংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়?
Grafting কী?
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি বলতে কী বোঝ?
স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ব্যাখ্যা কর।
কাটিং পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।
বড় প্রশ্ন
প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা কর।
কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির সুবিধা লিখ।
Grafting ও Cutting ব্যাখ্যা কর।
৯) সহজে মনে রাখার ট্রিক
“মূ-কাঁ-পাতা”
এর অর্থ:
মূ = মূল
কাঁ = কাণ্ড
পাতা = পাতা
অর্থাৎ উদ্ভিদের এই তিন অংশ থেকেও নতুন উদ্ভিদ জন্মাতে পারে।
১০) পড়ার সহজ নিয়ম
ডায়াগ্রাম বেশি প্র্যাকটিস করো।
বাস্তবে আলু, আদা, পেঁয়াজ, মানিপ্ল্যান্ট দেখে শিখো।
টেবিল বানিয়ে পড়লে সহজে মনে থাকবে।
“কোন অংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মাচ্ছে” — এই প্রশ্নটি মনে রেখে পড়ো
উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি: প্রশ্ন-উত্তর
১) বংশবৃদ্ধি কাকে বলে?
যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব নিজের মতো নতুন জীব সৃষ্টি করে, তাকে বংশবৃদ্ধি বলে।
২) বংশবৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা কী?
বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে জীবের সংখ্যা বাড়ে, প্রজাতি টিকে থাকে এবং পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব বজায় থাকে।
৩) উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি কত প্রকার?
উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি প্রধানত দুই প্রকার:
যৌন বংশবৃদ্ধি।
অযৌন বংশবৃদ্ধি।
৪) অযৌন বংশবৃদ্ধি কাকে বলে?
যে বংশবৃদ্ধিতে একটি মাত্র উদ্ভিদ অংশ নেয়, গ্যামেট লাগে না এবং বীজ ছাড়াই নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়, তাকে অযৌন বংশবৃদ্ধি বলে।
৫) অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি কাকে বলে?
উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড বা পাতা থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মালে তাকে অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি বলে।
৬) অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির বৈশিষ্ট্য কী?
বীজ লাগে না।
দ্রুত নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়।
নতুন উদ্ভিদ মাতৃউদ্ভিদের মতো হয়।
৭) অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির উদাহরণ দাও।
আলু, আদা, পেঁয়াজ, ব্রায়োফিলাম।
৮) প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি কাকে বলে?
প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে উদ্ভিদের অঙ্গ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মালে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি বলে।
৯) প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি কতভাবে হয়?
এটি স্পোর, খণ্ডীভবন, মুকুলোদ্গম, পুনর্জন্ম, মূল, কাণ্ড ও পাতার মাধ্যমে হতে পারে।
১০) স্পোর কী?
স্পোর হলো খুব ছোট, বিশেষ ধরনের জননকণা, যা থেকে নতুন জীব জন্মাতে পারে।
১১) স্পোর কোথায় দেখা যায়?
Mucor, Penicillium, Rhizopus এবং অন্যান্য ছত্রাকে।
১২) স্পোরের মাধ্যমে কীভাবে বংশবৃদ্ধি হয়?
ছত্রাকের দেহে স্পোরথলি তৈরি হয়। এর ভেতরে অসংখ্য স্পোর জন্মায়। পরে স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুকূল পরিবেশে নতুন জীব তৈরি করে।
১৩) স্পোরের বৈশিষ্ট্য কী?
খুব হালকা।
সহজে ছড়ায়।
প্রতিকূল পরিবেশেও কিছুটা টিকে থাকতে পারে।
১৪) স্পোরের একটি বাস্তব উদাহরণ দাও।
পাউরুটিতে বা বাসি খাবারে কালো বা সবুজ ফাঙ্গাস দেখা যায়।
১৫) খণ্ডীভবন কাকে বলে?
যখন কোনো জীবের দেহ কয়েকটি খণ্ডে ভাগ হয়ে যায় এবং প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন জীব তৈরি হয়, তাকে খণ্ডীভবন বলে।
১৬) খণ্ডীভবনের উদাহরণ দাও।
Spirogyra।
১৭) খণ্ডীভবন কীভাবে হয়?
Spirogyra-এর দেহ সুতোসদৃশ। দেহ ভেঙে কয়েকটি অংশ হয়। প্রতিটি অংশ আবার বৃদ্ধি পেয়ে নতুন জীব তৈরি করে।
১৮) মুকুলোদ্গম কাকে বলে?
মাতৃদেহের গায়ে ছোট মুকুল বা ফোলা অংশ তৈরি হয়ে সেটি বড় হয়ে নতুন জীব তৈরি করলে তাকে মুকুলোদ্গম বলে।
১৯) মুকুলোদ্গমের উদাহরণ দাও।
Yeast।
২০) পুনর্জন্ম কাকে বলে?
জীবদেহের কাটা বা বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে আবার সম্পূর্ণ নতুন জীব তৈরি হওয়ার ক্ষমতাকে পুনর্জন্ম বলে।
২১) পুনর্জন্মের উদাহরণ দাও।
কিছু শৈবাল, Planaria, Hydra।
২২) মূলের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি কী?
কিছু উদ্ভিদের মূল খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা হয় এবং সেই মূল থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।
২৩) মূলের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধির উদাহরণ দাও।
মিষ্টি আলু, ডালিয়া।
২৪) কাণ্ডের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি কী?
কাণ্ডের পরিবর্তিত অংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মালে তাকে কাণ্ডের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি বলে।
২৫) কাণ্ডের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধির উদাহরণ দাও।
আলু, আদা, পেঁয়াজ।
২৬) আলু কোন ধরনের কাণ্ড?
আলু হলো পরিবর্তিত কাণ্ড, যাকে কন্দ বলা হয়।
২৭) আলুর কোন অংশ থেকে নতুন গাছ জন্মায়?
আলুর চোখ বা কুঁড়ি অংশ থেকে নতুন গাছ জন্মায়।
২৮) আদা কোন ধরনের কাণ্ড?
আদা হলো ভূগর্ভস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড বা রাইজোম।
২৯) পেঁয়াজ কোন ধরনের কাণ্ড?
পেঁয়াজ হলো বাল্বজাতীয় পরিবর্তিত কাণ্ড।
৩০) পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি কী?
কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় ছোট কুঁড়ি তৈরি হয়। সেখান থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মালে তাকে পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি বলে।
৩১) পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধির উদাহরণ দাও।
Bryophyllum।
৩২) কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি কাকে বলে?
মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ভিদের নতুন চারা তৈরি করলে তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি বলে।
৩৩) কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির সুবিধা কী?
দ্রুত অনেক চারা পাওয়া যায়।
ভালো জাত সংরক্ষণ করা যায়।
ফল দ্রুত পাওয়া যায়।
৩৪) জোড় কলম কী?
দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের অংশ জোড়া লাগিয়ে নতুন উদ্ভিদ তৈরি করার পদ্ধতিকে জোড় কলম বলে।
৩৫) জোড় কলমের দুটি অংশ কী?
Stock
Scion
৩৬) Stock কী?
যে অংশে মূল থাকে, তাকে Stock বলে।
৩৭) Scion কী?
যে অংশটি উন্নত জাতের হয় এবং Stock-এর সঙ্গে জোড়া লাগানো হয়, তাকে Scion বলে।
৩৮) জোড় কলমের উদাহরণ দাও।
আম, লেবু, গোলাপ।
৩৯) কাটিং কী?
গাছের ডাল বা কাণ্ড কেটে মাটিতে পুঁতে নতুন গাছ তৈরি করার পদ্ধতিকে কাটিং বলে।
৪০) কাটিংয়ের উদাহরণ দাও।
গোলাপ, মানিপ্ল্যান্ট, জবা।
৪১) কাটিং পদ্ধতিতে ডালে কী থাকা দরকার?
ডালে অবশ্যই গাঁট বা node থাকতে হবে।
৪২) প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির পার্থক্য কী?
প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি প্রকৃতিতে নিজে নিজে হয়, আর কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি মানুষ করে।
৪৩) “মূ-কাঁ-পাতা” ট্রিকটির অর্থ কী?
মূ = মূল
কাঁ = কাণ্ড
পাতা = পাতা
অর্থাৎ উদ্ভিদের এই তিন অংশ থেকেও নতুন উদ্ভিদ জন্মাতে পারে।
৪৪) স্পোর বীজ নয় কেন?
স্পোর ছোট জননকণা, কিন্তু বীজের মতো পূর্ণাঙ্গ গঠন নয়।
৪৫) Yeast কি উদ্ভিদ?
না, Yeast একটি ছত্রাক। তবে অযৌন জননের উদাহরণ হিসেবে এটি পড়ানো হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১
উদ্দীপক:
রহিম দেখল, আলুর গায়ে ছোট ছোট চোখ থেকে নতুন কুঁড়ি বের হচ্ছে। কিছুদিন পর সেখান থেকে নতুন গাছ তৈরি হলো।
ক. বংশবৃদ্ধি কী?
খ. আলু দিয়ে কীভাবে নতুন গাছ হয়?
গ. এটি কোন ধরনের বংশবৃদ্ধি? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. এই ধরনের বংশবৃদ্ধির দুটি সুবিধা লেখ।
উত্তর:
ক. যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব নিজের মতো নতুন জীব সৃষ্টি করে, তাকে বংশবৃদ্ধি বলে।
খ. আলুর গায়ে থাকা চোখ বা কুঁড়ি থেকে নতুন অঙ্কুর বের হয়। পরে সেই অঙ্কুর বড় হয়ে নতুন গাছে পরিণত হয়।
গ. এটি অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি। কারণ এখানে বীজের প্রয়োজন হয়নি, বরং আলুর পরিবর্তিত কাণ্ডের চোখ থেকে নতুন উদ্ভিদ হয়েছে। এটি প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবৃদ্ধির উদাহরণ।
ঘ.
দ্রুত নতুন গাছ পাওয়া যায়।
মাতৃউদ্ভিদের মতোই বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২
উদ্দীপক:
শাহিনা একটি গোলাপ গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিল। কিছুদিন পর সেখানে শিকড় বের হয়ে নতুন গাছ হলো।
ক. কাটিং কী?
খ. কাটিংয়ের মাধ্যমে কীভাবে নতুন গাছ হয়?
গ. এটি কোন ধরনের বংশবৃদ্ধি?
ঘ. কাটিং পদ্ধতির গুরুত্ব লেখ।
উত্তর:
ক. গাছের কোনো অংশ কেটে মাটিতে লাগিয়ে নতুন গাছ তৈরি করার পদ্ধতিকে কাটিং বলে।
খ. ডালের কাটা অংশ থেকে শিকড় বের হয়। পরে কুঁড়ি গজিয়ে সেটি নতুন গাছে পরিণত হয়।
গ. এটি কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি। কারণ মানুষের সাহায্যে নতুন গাছ তৈরি করা হয়েছে।
ঘ.
অল্প সময়ে অনেক চারা তৈরি হয়।
সহজে একই গুণের গাছ পাওয়া যায়।
ফুল ও শোভাবর্ধক গাছে এটি খুব কাজে লাগে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩
উদ্দীপক:
একটি ছত্রাকের দেহে ছোট ছোট স্পোর তৈরি হলো। পরে সেগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল এবং উপযুক্ত জায়গায় গিয়ে নতুন জীব তৈরি করল।
ক. স্পোর কী?
খ. স্পোরের মাধ্যমে কীভাবে বংশবৃদ্ধি হয়?
গ. এটি কোন ধরনের বংশবৃদ্ধি?
ঘ. স্পোরের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর:
ক. স্পোর হলো খুব ছোট বিশেষ ধরনের জননকণা, যা থেকে নতুন জীব জন্মাতে পারে।
খ. ছত্রাকের দেহে স্পোরথলি তৈরি হয়। এর ভেতরে অসংখ্য স্পোর জন্মায়। পরে স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুকূল পরিবেশে নতুন জীব তৈরি করে।
গ. এটি অযৌন বংশবৃদ্ধি।
ঘ.
স্পোর খুব হালকা।
সহজে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪
উদ্দীপক:
একটি Spirogyra-এর দেহ ভেঙে কয়েকটি খণ্ডে ভাগ হয়ে গেল। পরে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হলো।
ক. খণ্ডীভবন কী?
খ. Spirogyra কীভাবে বংশবৃদ্ধি করে?
গ. এটি কোন ধরনের বংশবৃদ্ধি?
ঘ. খণ্ডীভবনের একটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর:
ক. যখন কোনো জীবের দেহ কয়েকটি খণ্ডে ভাগ হয়ে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন জীব তৈরি হয়, তাকে খণ্ডীভবন বলে।
খ. Spirogyra-এর দেহ সুতোসদৃশ। দেহ ভেঙে কয়েকটি অংশ হয় এবং প্রতিটি অংশ থেকে নতুন জীব তৈরি হয়।
গ. এটি অযৌন বংশবৃদ্ধি।
ঘ. এটি সাধারণত সরল গঠনের জীবের মধ্যে দেখা যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫
উদ্দীপক:
একজন কৃষক ভালো জাতের আম গাছের ডাল আরেকটি গাছের সঙ্গে জোড়া লাগালেন। কিছুদিন পর সেটি বেড়ে উঠল।
ক. জোড় কলম কী?
খ. জোড় কলমে ব্যবহৃত দুটি অংশের নাম লেখ।
গ. এটি কোন ধরনের বংশবৃদ্ধি?
ঘ. জোড় কলমের দুটি সুবিধা লেখ।
উত্তর:
ক. দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের অংশ জোড়া লাগিয়ে নতুন উদ্ভিদ তৈরি করার পদ্ধতিকে জোড় কলম বলে।
খ.
Stock
Scion
গ. এটি কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি।
ঘ.
ভালো মানের ফল পাওয়া যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৬
উদ্দীপক:
একটি Bryophyllum গাছের পাতার কিনারায় ছোট ছোট কুঁড়ি দেখা গেল। পরে সেখান থেকে নতুন চারা তৈরি হলো।
ক. পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি কী?
খ. Bryophyllum কোন ধরনের বংশবৃদ্ধি করে?
গ. এটি কেন অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি?
ঘ. এই পদ্ধতির একটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর:
ক. কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় কুঁড়ি তৈরি হয়ে সেখান থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মালে তাকে পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি বলে।
খ. Bryophyllum পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
গ. এখানে পাতাই নতুন গাছ তৈরির কাজ করছে। তাই এটি অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি।
ঘ. এখানে বীজের প্রয়োজন হয় না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৭
উদ্দীপক:
একটি মিষ্টি আলুর মোটা মূল থেকে নতুন গাছ জন্মাল।
ক. মূলের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি কী?
খ. মিষ্টি আলু কীভাবে বংশবৃদ্ধি করে?
গ. এটি কোন ধরনের বংশবৃদ্ধি?
ঘ. এর একটি উপকারিতা লেখ।
উত্তর:
ক. কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মালে তাকে মূলের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি বলে।
খ. মিষ্টি আলুর মোটা মূল খাদ্য সঞ্চয় করে। সেই মূল থেকে নতুন কুঁড়ি বের হয়ে নতুন গাছ তৈরি হয়।
গ. এটি প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি।
ঘ. অল্প সময়ে নতুন গাছ পাওয়া যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৮
উদ্দীপক:
একটি ছেলেকে তার শিক্ষক বললেন, “আলু আসলে মূল নয়, এটি পরিবর্তিত কাণ্ড।”
ক. আলু কী ধরনের অংশ?
খ. আলুর চোখ কী?
গ. আলু দিয়ে কীভাবে নতুন গাছ হয়?
ঘ. কেন আলুকে কাণ্ড বলা হয়?
উত্তর:
ক. আলু পরিবর্তিত কাণ্ড, যাকে কন্দ বলা হয়।
খ. আলুর চোখ হলো কুঁড়ি।
গ. আলুর চোখ থেকে নতুন কুঁড়ি বের হয় এবং পরে তা নতুন গাছে পরিণত হয়।
ঘ. কারণ এটি ভূগর্ভস্থ কাণ্ডের পরিবর্তিত অংশ এবং এতে কুঁড়ি থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৯
উদ্দীপক:
একটি ছত্রাকের দেহে স্পোর তৈরি হলো। স্পোরগুলো বাতাসে উড়ে গিয়ে নতুন জায়গায় জন্মাল।
ক. স্পোর উৎপাদন কী?
খ. Mucor কীভাবে বংশবৃদ্ধি করে?
গ. এটি কোন ধরনের জনন?
ঘ. স্পোরের একটি সুবিধা লেখ।
উত্তর:
ক. স্পোর তৈরি হয়ে নতুন জীব সৃষ্টি হলে তাকে স্পোর উৎপাদন বলে।
খ. Mucor-এ স্পোরথলির ভেতরে অসংখ্য স্পোর তৈরি হয়। পরে সেগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুকূল পরিবেশে নতুন জীব জন্মায়।
গ. এটি অযৌন জনন।
ঘ. স্পোর সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১০
উদ্দীপক:
একটি মানিপ্ল্যান্টের ডাল কেটে পানিতে বা মাটিতে রাখা হলো। কিছুদিন পরে সেখানে শিকড় গজাল।
ক. কাটিং কাকে বলে?
খ. মানিপ্ল্যান্ট কীভাবে নতুন গাছ হয়?
গ. এটি কোন ধরনের বংশবৃদ্ধি?
ঘ. কাটিং পদ্ধতির দুটি উপকারিতা লেখ।
উত্তর:
ক. গাছের ডাল বা কাণ্ড কেটে মাটিতে পুঁতে নতুন গাছ তৈরি করার পদ্ধতিকে কাটিং বলে।
খ. মানিপ্ল্যান্টের ডাল কেটে পানিতে বা মাটিতে রাখলে শিকড় বের হয়। পরে সেটি নতুন গাছে পরিণত হয়।
গ. এটি কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি।
ঘ.
সহজে নতুন চারা তৈরি হয়।
একই গুণের গাছ পাওয়া যায়।
0 মন্তব্যসমূহ